প্রকাশিত : ২২:০৪, ০৮ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ২২:০৬, ০৮ অক্টোবর ২০২৫
মার্কিন বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসন। বিশ্বের কম বেশি সব দেশেই এই প্রতিষ্ঠানের পণ্য জনপ্রিয়। এবার ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডারের ক্যানসার সৃষ্টির উপাদানের উপস্থিতির অভিযোগে জনসন অ্যান্ড জনসনকে প্রায় ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত।
জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে সালে মামলা করেছিলেন মে মুর নামের এক নারীর পরিবার। ঐ নারী যিনি ২০২১ সালে মেসোথেলিওমা ক্যানসারে মারা যান। তার পরিবার একই বছর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করে দাবি করে যে, জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালক বেবি পাউডারে অ্যাসবেস্টস ফাইবার ছিল, যা মেসোথেলিওমা ক্যানসারের কারণ।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, কোম্পানিকে ১৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ৯৫০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক জরিমানা দিতে হবে মুর পরিবারের কাছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, শাস্তিমূলক জরিমানার পরিমাণ সাধারণত ক্ষতিপূরণের নয়গুণের বেশি হওয়া উচিত নয়, ফলে এই রায় আপিলে কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
- নীরবে ভিটামিন ডি’র অভাবে জটিলতা, যেসব উপসর্গের বিষয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসক
- দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার জন্য যে ৩ অভ্যাস এড়িয়ে যেতে হবে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
অন্যদিকে, জনসন অ্যান্ড জনসনের বৈশ্বিক লিগ্যাল ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হ্যাস বলেছেন,এই রায় অযৌক্তিক ও সংবিধানবিরোধী। আমরা অবিলম্বে আপিল করব। বাদীপক্ষ তথাকথিত জাঙ্ক সায়েন্স-এর উপর নির্ভর করেছে, যা কখনোই আদালতে উপস্থাপন করা উচিত ছিল না।কোম্পানিটি বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পণ্য নিরাপদ, এতে অ্যাসবেস্টস নেই এবং এটি ক্যানসার সৃষ্টি করে না।
এটি জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রথম রায় নয়। ২০১৬ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির এক আদালত কোম্পানিটিকে ৭২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছিল, ওভারি ক্যানসারে মারা যাওয়া জ্যাকুলিন ফক্স-এর পরিবারকে। ২০২৪ সালে, কোম্পানি ভোক্তাদের ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ৭০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধে রাজি হয়, যা ৪৩টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের যৌথ তদন্তের ফল ছিল। জনসন অ্যান্ড জনসন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালেই ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে কর্নস্টার্চ-ভিত্তিক পণ্য চালু করে। ২০২৩ সালের মধ্যে তারা বিশ্বব্যাপী ট্যালক পাউডার বিক্রি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে।
বর্তমানে জনসন অ্যান্ড জনসন ৬৭,০০০-এরও বেশি মামলার সম্মুখীন, যেখানে বাদীপক্ষ দাবি করছে তাদের ক্যানসার এই কোম্পানির ট্যালক পণ্য ব্যবহারের ফল। এর মধ্যে মেসোথেলিওমা সম্পর্কিত মামলা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েকটি মামলায় কোম্পানিকে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানি মামলায় জয়ও পেয়েছে। গত সপ্তাহেই সাউথ ক্যারোলিনার এক আদালত জনসন অ্যান্ড জনসনের পক্ষে রায় দেন।
সূত্র: আলজাজিরা